
স্টাফ রিপোর্টার : নিজাম উদ্দীন
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
সময়: মঙ্গলবার সকাল ৬টা (ফজরের নামাজের ঠিক পর)।
স্থান: এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা।
বিএনপি মিডিয়া সেল এবং দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে:
"বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।"
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে তিন মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা ও গুরুতর অসুস্থতার সাথে লড়াই করছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় এক অনন্য নাম। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো:
১. বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এটি ছিল মুসলিম বিশ্বের জন্যও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম প্রথম নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান।
২. গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮০-র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল আপসহীন। এই আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তাঁকে 'আপসহীন নেত্রী' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
৩. শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাঁর আমলেই:
মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়।
নারী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে উপবৃত্তি কর্মসূচি ব্যাপকভাবে শুরু করা হয়।
৪. তিন মেয়াদে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন
তিনি মোট তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন:
১৯৯১ – ১৯৯৬: সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তনের পর প্রথম মেয়াদ।
১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি): স্বল্পকালীন ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ।
২০০১ – ২০০৬: চারদলীয় জোট সরকারের নেতৃত্বে তৃতীয় মেয়াদ।
৫. উন্নয়ন ও সামাজিক সংস্কার
তাঁর শাসনামলে মুক্তবাজার অর্থনীতি জোরালো হয় এবং যমুনা বহুমুখী সেতুর মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরিতেও তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
৬. ব্যক্তিগত ত্যাগ ও সংগ্রাম
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং গৃহবন্দী অবস্থায় থেকেছেন। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আইনি লড়াই ও অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি নিজ আদর্শে অটল ছিলেন।